দাম কমবে
এলপি গ্যাস সিলিন্ডার-৫ হাজার লিটারের কম ধারণক্ষমতার এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের আমদানি শুল্ক ২৫ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে দাম কমতে পারে পণ্যটির।বিদেশি মোটরসাইকেল-দেশে সংযোজনের জন্য আমদানি করা সিকেডি মোটরসাইকেলের সম্পূরক শুল্ক ৪৫% থেকে কমিয়ে ২০%করা হয়েছে। এতে আমদানি করা মোটর সাইকেলের দাম কমতে পারে।
নতুন হাইব্রিড গাড়ি-আমদানির সম্পূরক শুল্ক হার ৪৫ থেকে কমিয়ে ৩০ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে
এলইডি বাতি-যন্ত্রাংশ আমদানিতে আরোপিত ২৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক তুলে নেওয়ায় দাম কমবে
পোলট্রি ও গবাদিপশুর খাবার-খাবার তৈরির কয়েকটি কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ৫-১০ শতাংশ শুল্ক তুলে নেওয়া হয়েছে
রাবার -১৫ শতাংশ মূসক তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে দেশি রাবার কিনতে খরচ কমবে
শিল্পের অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র-পোশাক খাতের পাশাপাশি অন্যান্য রপ্তানি খাতকেও শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে
আরও যেসব পণ্য ও সেবার দাম কমতে পারে
হিউম্যান হলার, এলপিজি রোড ট্যাংকার, গ্রিজ, মূসক নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের কফি মেট, পেট্রোলিয়াম জেলি, বৈদ্যুতিক শিল্পের কাঁচামাল ফাইবার গ্লাস, টেপ ও ইউরিয়া রেসিন, স্টোভ, প্লাস্টিক ও গ্লাস ফাইবারের এলপিজি সিলিন্ডার, কয়লা, গাম, দেশি পাথর, কৃষি যন্ত্রাংশ, সিমেন্টের কাঁচামাল ফ্লাই অ্যাশ, বায়োগ্যাস ডাইজেস্টার, বাতাস প্রতিরোধী স্টোরেজ ব্যাগ, সৌরবিদ্যুতের অ্যালুমিনিয়ামের কাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন উপকরণ, মূসক নিবন্ধিত এলপিজি প্ল্যান্টের উপকরণ, পোশাক শিল্পের কাটিং টেবিল ইত্যাদি।
দাম বাড়বে
রুটি ও বিস্কুট১০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের পাউরুটি, বানরুটি, হাতে তৈরি কেক, বিস্কুটের ওপর মূসক অব্যাহতি সুবিধা তুলে নেওয়া হচ্ছে। এতে এসব কেনার খরচ বাড়বে।
সিগারেট ও বিড়ি
প্রস্তাবিত বাজেটে সিগারেট ও বিড়ির ওপর আরোপিত কর হারে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে সিগারেট ও বিড়ির দাম বাড়বে। যদিও ইতিমধ্যেই বাজারে পণ্য দুটির দাম বেড়েছে।
ওয়াশিং মেশিন
১২ কেজির কম ক্ষমতার ওয়াশিং মেশিন আমদানি শুল্ক ১ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে
জর্দা ও গুল
জর্দা ও গুলের ওপর সম্পূরক শুল্ক ৬০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ শতাংশ করার প্রস্তাব
রড
রড তৈরির কাঁচামাল বিলেট আমদানিতে কর ভার বৃদ্ধির ফলে দাম বাড়তে পারে
শিশুদের বই
শিশুদের ছবির বই, ড্রয়িং বই আমদানিতে শুল্ক ৫ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে
পাদুকা
১২০ টাকা মূল্য পর্যন্ত প্লাস্টিক ও রাবারের চপ্পল এবং পাদুকার ওপর মূসক বসছে
আরও যেসব পণ্য ও সেবার দাম বাড়তে পারে
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বিদেশি পাঠ্যপুস্তক, ইউপিএস ও আইপিএস, ট্রাভেল এজেন্সি ও মেডিটেশন সেবা, বায়োমেট্রিক স্ক্যানার, মোটরগাড়ি মেরামত, স্থান ও স্থাপনা ভাড়া, বিদেশি চাল, কর্নফ্লাওয়ার, দেশি মোটরসাইকেল, বিদেশি ট্যালকম পাউডার, সাগু, সয়া কেক ও সরিষার খৈল, ল্যাম্পহোল্ডার ও কানেকটর, ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাম রেকর্ডিং পেপার, টিউব ও পাইপ, পরিশোধিত কপারওয়্যার ও কপার কয়েল, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, বিদেশি অপটিক্যাল ফাইবার কেব্ল, হাসপাতালে ব্যবহৃত কয়েকটি যন্ত্র ইত্যাদি।
বাস্তবায়ন কৌশলের পথনির্দেশিকা প্রয়োজন
সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য ২০১৬-১৭ সালের জন্য প্রাক্কলিত ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধিকে আমরা প্রয়োজনীয় মনে করি। তবে এ অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর সক্ষমতার বিষয়টিই আমাদের কাছে বিশেষভাবে বিচার্য। গত দুই বছরে জিডিপি শতাংশ হারে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে। আগামী বছর কীভাবে ব্যক্তি খাতে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। বাজেটে হিসাব অনুযায়ী ব্যক্তি খাতে জিডিপির শতাংশ হিসাবে যদি দেড় শতাংশ বাড়তি বিনিয়োগ দরকার হয়, তাহলে আগামী অর্থবছরে ৮০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ প্রয়োজন পড়বে। এ বাড়তি বিনিয়োগ কীভাবে ও কোন কোন উৎস থেকে আমরা আকর্ষণ করতে পারব, সেটির সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা আমরা প্রত্যাশা করি। এর মধ্যে পুঁজিবাজার থেকে কত আসবে, ব্যাংকিং খাত কী ভূমিকা রাখবে, অথবা ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকে কত অংশ আসবে, সে সম্বন্ধে স্পষ্ট একটা ধারণা থাকতে হবে।
বাজেটের আর্থিক কাঠামো থেকে প্রতিভাত হয় যে দেশজ আয়ের অংশ হিসেবে মোট আয় ও ব্যয় ২ শতাংশ করে বৃদ্ধি করতে হবে। সে ক্ষেত্রে লক্ষ করছি যে বাড়তি আয়ের মূল অংশের জোগান আসবে আয়কর থেকে। আমরাও মনে করি, ব্যক্তি খাতের আয়কর থেকে বাজেটের বড় অংশ আসা উচিত। যিনি বেশি আয় করেন, তাঁকে সে অনুপাতে আয়কর প্রদান করতে হবে। কিন্তু বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রেয়াত সুবিধা কমানোতে মনে হচ্ছে যাঁরা ইতিমধ্যে কর দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের ওপরই চাপটা বেশি দেওয়া হবে। আয়ের অন্যতম আরেক সূত্র মূল্য সংযোজন কর। ভ্যাট আইন বাস্তবায়নকে এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। আমরা মনে করি বিদ্যমান বাস্তবতায় এটা সঠিক হয়েছে। ভ্যাট আইনের জন্য সরকারও যেমন প্রস্তুত না, ব্যবসায়ীরাও নয়। এই যে বাড়তি এক বছর পাওয়া গেল, সে সময়টা যেন আইনটি বাস্তবায়নের নিমিত্তে যেসব পদক্ষেপ দরকার তার জন্য ব্যয় করা হয়। তবে এ বাস্তবায়ন পিছিয়ে যাওয়ার ফলে এ বছরের ভ্যাট আদায়ের বড় লক্ষ্যমাত্রাটি কিছুটা ঝুঁকিতে রয়ে গেল।
আমরা বারবার বলে আসছি বাস্তবায়ন কৌশলের ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা। এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার গুণগত মানের যথোপযুক্ত উৎকর্ষের বৃদ্ধি। যেমন পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ করছি ব্যাংকিং খাতে, মৌলিক দুর্বলতার দিকগুলোতে গুরুত্ব না দিয়ে এ খাতের জন্য বরং দুই হাজার কোটি টাকার পুনঃপুঁজিকরণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যাঁরা টাকা নিয়ে শোধ করলেন না তাঁদের সেই ঘাটতি পূরণের জন্য জনগণের করের টাকা গুনতে হচ্ছে। আমরা কেন সেই ঘাটতি পূরণের জন্য আমাদের করের টাকা দেব, এ প্রশ্ন করা কি অযৌক্তিক হবে? আমরা আর্থিক খাত সংস্কার কমিশন করে এ খাতের সমস্যাগুলোর মূলে যাওয়ার তাগিদ দিচ্ছি।
অপরদিকে কৃষি খাতে বরাদ্দ প্রকৃতপক্ষে বাড়েনি। কৃষকেরা এ মুহূর্তে কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। একটি কৃষিমূল্য নির্ধারণ কমিশন গঠনের জন্য আমরা বারবার সুপারিশ করেছি।
আসলে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে সাহসী পরিকল্পনা বা সেসব সম্বন্ধে কর্মপরিকল্পনা পেলাম না, দেখতে হবে বাজেট বাস্তবায়নকালে তা পূরণ হয় কি না।
বাজেট নিয়ে বিসিআই
প্যাকেজ মূসকে চাপে পড়বেন ব্যবসায়ীরা
২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় এমনটাই বলেছে বিসিআই। বাজেটে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ অব্যাহত রাখার বিষয়টিকে ‘হতাশাব্যঞ্জক’ বলে উল্লেখ করেছে এই চেম্বার। তাদের মতামত, এমন সুযোগের কারণে বৈধভাবে অর্থ উপার্জনকারীরা নিরুৎসাহিত হবেন। তা ছাড়া জমি ক্রয়ে কালোটাকা ব্যবহার হলে জমির দাম বাড়বে ও শিল্পায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে।
রাজধানীতে বিসিআইয়ের সভাকক্ষে গতকাল শুক্রবার বাজেটের ওপর আলোচনার জন্য সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন চেম্বারের সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধূরী। সভায় উপস্থিত ছিলেন চেম্বারের পরিচালক মোহাব্বত উল্যাহ্, শহিদুল ইসলাম, প্রীতি চক্রবর্তী, ফারুক আহমেদ প্রমুখ। আলোচনার পর বাজেট প্রতিক্রিয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আকারে পাঠানো হয়।
প্রস্তাবিত বাজেটে কয়েকটি সিদ্ধান্তকে ‘অশুভ’ বলেছে বিসিআই। সেগুলো হচ্ছে পোশাক রপ্তানির এফওবি মূল্যের ওপর দেড় শতাংশ উৎসে কর, ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত রাখা, রাজস্ব আদায়ে ব্যাপক হারে করারোপ, মুঠোফোনের সব সেবার ওপর কর বৃদ্ধি ইত্যাদি।
বাজেটের ঘাটতি পূরণে সরকার ব্যাংক খাত থেকে ৩৮ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকার বেশি ঋণ গ্রহণের কথা বলেছে। বিসিআই বলেছে, সরকার যদি ব্যাংক খাত থেকে এই বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করে, তবে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হবেন। বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির স্বার্থে দেশীয় ব্যাংক খাত থেকে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ যৌক্তিক হারে হ্রাস করা প্রয়োজন বলে মনে করে চেম্বার।
বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর শুল্কারোপ, পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের করপোরেট কর হ্রাস, চাল আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি, তামাক ও তামাকজাতীয় পণ্য তৈরির যন্ত্রপাতি আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি, কৃষিতে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা, বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা, গ্যাস সিলিন্ডারের ওপর শুল্ক হ্রাস, শিল্পায়নের বিকাশে অবকাশ সুবিধা অব্যাহত, শেয়ারবাজারে প্রণোদনা দেওয়াকে ভালো উদ্যোগ বলে উল্লেখ করেছে বিসিআই।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের
সভাপতি ও প্রথম সহসভাপতি এমন মতামত দেন|
গামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট শিল্প ও
বাণিজ্য সহায়ক নয় বলে মনে করছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। তবে এ মত আনুষ্ঠানিক
নয় বলেও জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের
সভাপতি ও প্রথম সহসভাপতি এমন মতামত দেন।
তবে তারা বলেছেন, এ মতামত এফবিসিসিআইর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নয়। সাংগঠনিকভাবে এফবিসিসিআই পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানাবে।
শুরুতে এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, 'এত বিশাল বাজেটের পর্যালোচনা করতে সময় লাগবে। যে কারণে এখনই প্রকৃত পর্যবেক্ষণ বা প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছে না। আগামী ৮ অথবা ৯ জুন এফবিসিসিআই বিস্তারিত পর্যালোচনা উপস্থাপন করবে।'
তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল সৌদি আরব যাচ্ছে। এফবিসিসিআই সভাপতি, সহসভাপতিসহ সংগঠনটির একাধিক পরিচালক প্রতিনিধি দলে থাকছেন। এ বিষয়ে ব্যস্ততার কারণে এখনই বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব হচ্ছে না।'
মাতলুব আহমাদ বলেন, 'দেশের ৪৮০টি ব্যবসায়ী সমিতি, ৮০টি চেম্বার এবং যৌথ চেম্বারগুলো প্রস্তাবিত বাজেটকে প্রশংসা করতে পারছে না। পুরনো গাড়ি আমদানিকারক, জুয়েলারি ব্যবসায়ী, লোহা ব্যবসায়ী, ই-কমার্স, বেকারি ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তারা প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় অনেক সমস্যার কথা বলেছেন।'
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, 'আমরা এনবিআরের সঙ্গে চার মাস ধরে বিশদ আলোচনা করেছি। ভ্যাটসহ সামগ্রিক কর বিষয়ে আমাদের যে প্রস্তাব ছিল, বাজেটে তার প্রতিফলন পাইনি। প্রস্তাবিত বাজেট কর আদায় বাড়াতে গিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের করের আওতায় আনা হয়েছে। ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না করেও ভ্যাট আইন থেকে যে সুবিধা নেওয়ার লক্ষ্য ছিল, তা নেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'ব্যবসায়ীরা কর দিতে প্রস্তুত। কিন্তু সেটি সাধ্যের মধ্যে হতে হবে।'
এফবিসিসিআই সহসভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, 'কর ধার্য করা উচিত মুনাফার ওপর। কোনোভাবেই মোট ব্যবসার ওপর হওয়া উচিত নয়। সরকার যে বাজেট প্রস্তাব করেছে তাতে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য সমস্যায় পড়ে-এমন অনেক কিছুই আছে।'
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্বে দোকান মালিক সমিতির এক সদস্য এফবিসিসিআই সভাপতিকে উদ্দেশ করে বলেন, 'আমরা প্রতি বছর ১৪ হাজার টাকা করে প্যাকেজ ভ্যাট দিতাম। এবার শুনেছি সেটি বাড়িয়ে ২৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। আমরা এই পরিমাণ ভ্যাট দিতে পারব না, এত ব্যবসা আমাদের নেই। আপনারা (এফবিসিসিআই) সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে কমানোর ব্যবস্থা করবেন।'
সিকিউরিটি সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতা বলেন, 'সরকার এই সেবা খাতেও ভ্যাট বসিয়েছে। এটা তুলে না নিলে তারা আন্দোলনে যাবেন।'
এক প্রশ্নের জবাবে মাতলুব আহমাদ বলেন, 'এফবিসিসিআই কখনও কালো টাকার পক্ষে ছিল না, এখনও নেই। তবে দেশ থেকে টাকা যাতে বিদেশে পাচার না হয় সরকারকে সেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করব।'
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়নি।
তবে তারা বলেছেন, এ মতামত এফবিসিসিআইর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নয়। সাংগঠনিকভাবে এফবিসিসিআই পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানাবে।
শুরুতে এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, 'এত বিশাল বাজেটের পর্যালোচনা করতে সময় লাগবে। যে কারণে এখনই প্রকৃত পর্যবেক্ষণ বা প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছে না। আগামী ৮ অথবা ৯ জুন এফবিসিসিআই বিস্তারিত পর্যালোচনা উপস্থাপন করবে।'
তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল সৌদি আরব যাচ্ছে। এফবিসিসিআই সভাপতি, সহসভাপতিসহ সংগঠনটির একাধিক পরিচালক প্রতিনিধি দলে থাকছেন। এ বিষয়ে ব্যস্ততার কারণে এখনই বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব হচ্ছে না।'
মাতলুব আহমাদ বলেন, 'দেশের ৪৮০টি ব্যবসায়ী সমিতি, ৮০টি চেম্বার এবং যৌথ চেম্বারগুলো প্রস্তাবিত বাজেটকে প্রশংসা করতে পারছে না। পুরনো গাড়ি আমদানিকারক, জুয়েলারি ব্যবসায়ী, লোহা ব্যবসায়ী, ই-কমার্স, বেকারি ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের উদ্যোক্তারা প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় অনেক সমস্যার কথা বলেছেন।'
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, 'আমরা এনবিআরের সঙ্গে চার মাস ধরে বিশদ আলোচনা করেছি। ভ্যাটসহ সামগ্রিক কর বিষয়ে আমাদের যে প্রস্তাব ছিল, বাজেটে তার প্রতিফলন পাইনি। প্রস্তাবিত বাজেট কর আদায় বাড়াতে গিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের করের আওতায় আনা হয়েছে। ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না করেও ভ্যাট আইন থেকে যে সুবিধা নেওয়ার লক্ষ্য ছিল, তা নেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'ব্যবসায়ীরা কর দিতে প্রস্তুত। কিন্তু সেটি সাধ্যের মধ্যে হতে হবে।'
এফবিসিসিআই সহসভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, 'কর ধার্য করা উচিত মুনাফার ওপর। কোনোভাবেই মোট ব্যবসার ওপর হওয়া উচিত নয়। সরকার যে বাজেট প্রস্তাব করেছে তাতে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য সমস্যায় পড়ে-এমন অনেক কিছুই আছে।'
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর পর্বে দোকান মালিক সমিতির এক সদস্য এফবিসিসিআই সভাপতিকে উদ্দেশ করে বলেন, 'আমরা প্রতি বছর ১৪ হাজার টাকা করে প্যাকেজ ভ্যাট দিতাম। এবার শুনেছি সেটি বাড়িয়ে ২৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। আমরা এই পরিমাণ ভ্যাট দিতে পারব না, এত ব্যবসা আমাদের নেই। আপনারা (এফবিসিসিআই) সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে কমানোর ব্যবস্থা করবেন।'
সিকিউরিটি সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতা বলেন, 'সরকার এই সেবা খাতেও ভ্যাট বসিয়েছে। এটা তুলে না নিলে তারা আন্দোলনে যাবেন।'
এক প্রশ্নের জবাবে মাতলুব আহমাদ বলেন, 'এফবিসিসিআই কখনও কালো টাকার পক্ষে ছিল না, এখনও নেই। তবে দেশ থেকে টাকা যাতে বিদেশে পাচার না হয় সরকারকে সেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করব।'
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়নি।
ভ্যাটের বোঝা বাড়ছে-
আবু কাওসার বলেন,
আবু কাওসার বলেন,
অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অধিক রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে এবারের বাজেটে ভ্যাটের
আওতা বৃদ্ধি ও হার অনেক বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। মোবাইল ফোন সেবার
ওপর করহার বাড়ানো হয়েছে। প্যাকেজ ভ্যাট বহাল রাখা হলেও পরিমাণ বিদ্যমানের চেয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে। সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্যের ওপর ব্যাপক হারে কর আরোপ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে
উৎপাদিত পণ্য কেক, বিস্কুট, সিআর কয়েলসহ বিভিন্ন পণ্যের নির্ধারিত ট্যারিফ বৃদ্ধির
প্রস্তাব করা হয়েছে। বিভিন্ন পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে 'বাড়তি' কর আরোপ প্রস্তাব কার্যকর হলে পণ্য ও সেবার উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। ভোক্তাকে তখন বেশি দামে পণ্য কিনতে হবে, সেবা পেতে হবে। এতে করে তাদের ওপর
ব্যাপক চাপ আসবে।
বর্তমানে ২২টি খাত সংকুচিত মূল্যভিত্তিতে বিশেষভাবে ভ্যাটে ছাড়ের সুবিধা পাচ্ছে। এর মধ্যে প্রস্তাবিত বাজেটে আটটি খাতের বিশেষ কর সুবিধা উঠিয়ে বিদ্যমানের চেয়ে বর্ধিত হারে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী মোটরগাড়ির গ্যারেজের ভ্যাটহার সাড়ে ৭ থেকে ১০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন। বর্ধিত হার কার্যকর হলে গাড়ির মালিককে মেরামতের পেছনে আরও বেশি বিল দিতে হবে। জাহাজ
নির্মাণে ডকইয়ার্ডে ভ্যাটহার সাড়ে ৭ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।
এতে করে জাহাজ নির্মাণের ব্যয় আরও বাড়বে। কনস্ট্রাকশন ফার্মের ভ্যাটহার সাড়ে ৫ থেকে ৬ শতাংশ করা হয়েছে। বর্ধিত ভ্যাটহার কার্যকর হলে নির্মাণ খাতের ব্যয় বাড়বে। বর্তমানে পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পরিবহনে আড়াই শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ আছে। নতুন বাজেটে তা বাড়িয়ে সাড়ে
৭ শতাংশ করা হয়। এতে করে পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়বে। ইমিগ্রেশন উপদেষ্টা সেবার ওপর বর্তমানে সাড়ে ৭ শতাংশ হারে ভ্যাট রয়েছে। এই হার দ্বিগুণ করা হয়েছে। ফলে ইমিগ্রেশনের সেবার জন্য ভোক্তাকে বেশি টাকা খরচ করতে হবে। কোনো অনুষ্ঠানে সম্পরশিপ সেবার জন্য এখন সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট আদায় করা হয়। এ সেবার ওপর ভ্যাট দ্বিগুণ করায় স্পনরশিপ সেবার খরচ আরও বাড়বে।
বর্তমানে দেশীয় তৈরি বিস্কুট, কেক, বিভিন্ন ধরনের পেপার, পেপার প্রোডাক্ট, জিপি শিট, সিআই শিট, রঙিন শিটসহ বিভিন্ন ধরনের এমএস প্রোডাক্টের নির্ধারিত ট্যারিফ মূল্য ২০ শতাংশ আছে। নতুন বাজেটে তা বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। বর্ধিত হার কার্যকর হলে এসব পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। সবচেয়ে বেশি ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে সিগারেট, জর্দা ও গুলে। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে বিড়ির। এতে করে ওই সব পণ্য আগের চেয়ে আরও বেশি দামে কিনতে হবে। গরিবের ব্যবহৃত হাওয়াই চপ্পলের ভ্যাট সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হার্ডবোর্ড, বৈদ্যুতিক জেনারেটর, সাধারণ জনগণের খাবার পাউরুটি, বনরুটি ইত্যাদি পণ্যের জন্য ভ্যাটে যে বিশেষ ছাড় আছে তা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। এ প্রস্তাব কার্যকর হলে গরিবের ব্যবহৃত ওই সব পণ্যের দাম বাড়বে।
প্যাকেজ ভ্যাট বাড়ছে :সারাদেশের ছোট ব্যবসায়ীরা বর্তমানে বছরে নির্ধারিত পরিমাণ ভ্যাট পরিশোধ করেন। নতুন বাজেটে এটি শতভাগ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রামের ছোট ব্যবসায়ীরা বছরে ১৪ হাজার টাকা এককালীন ভ্যাট দেন। নতুন বাজেটে এটি বাড়িয়ে ২৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। অন্যান্য সিটি করপোরেশন এলাকার ছোট ব্যবসায়ীরা বর্তমানে বছরে ১০ হাজার টাকা ভ্যাট দেন। তাদের দিতে হবে ২০ হাজার টাকা। জেলা শহরের জন্য এখন আছে ৭ হাজার ২০০ টাকা। তাদের দিতে হবে ১৪ হাজার টাকা। তৃণমূল পর্যায়ে দেশের অন্যান্য এলাকায় ভ্যাট আছে ৩ হাজার ৬০০ টাকা। তাদের দিতে হবে ৭ হাজার টাকা। যোগাযোগ করা হলে দোকান মালিক সমিতির সভাপতি এএসএম কিরন সমকালকে বলেন, প্যাকেজ ভ্যাট দ্বিগুণের প্রস্তাব কার্যকর হলে ব্যবসার খরচ বাড়বে। এতে করে জিনিসপত্রের দাম বাড়বে, যার বিরূপ প্রভাব পড়বে ভোক্তার ওপর।
Sources: http://www.prothom-alo.com,
http://bangla.samakal.net/

